কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেসন কি?

এ বিষয়ে নিজস্ব সংজ্ঞার কথা জানাচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর। সংস্থাটির একজন সাবেক পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, আপাতভাবে সুস্থ মনে হওয়া মানুষদের জন্য কোয়ারেন্টিন।

তার মতে, যেসব ব্যক্তিকে আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মনে হয়, কিন্তু সে সুস্থ হতে আবার নাও পারে, তার মধ্যে হয়তো জীবাণু আছে কিন্তু তার মধ্যে কোন ধরণের উপসর্গ দেখা দেয়নি- এমন ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

অর্থাৎ যারা এখনো অসুস্থ না এবং যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়নি, তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

আইসোলেশন হচ্ছে, কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়বে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকবে তখন তাকে আলাদা করে যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে তাকে বলা হয় আইসোলেশন।

সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য আর কোয়ারেন্টিন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য।

অবশ্য সারা পৃথিবীতেই কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে কী না সেটা স্পষ্ট নয়।

কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে কত দিন রাখ হচ্ছে

যে রোগের জন্য কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে রাখা হয় সেই রোগের জীবাণুর সুপ্তকাল কত দিন সেটার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, ওই রোগের জন্য মানুষকে কতদিন কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনে রাখা হবে।

করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে, এই ভাইরাসটির সুপ্তকাল হচ্ছে ১৪ দিন। অর্থাৎ ১৪ দিন পর্যন্ত কাউকে কোয়ারেন্টিন করে রাখলে যদি তার ভেতরে জীবাণু থাকে তাহলে এই সময়কালের মধ্যে তার উপসর্গ দেখা দেবে।

ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, কোয়ারেন্টিনে রাখা অবস্থায় যদি কারো উপসর্গ দেখা দেয় তাহলে তাকে আইসোলেশনে নিয়ে যেতে হবে।

কিন্তু আইসোলেশনে কতদিন রাখা হবে তার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। যত দিন পর্যন্ত তার চিকিৎসা দেয়া হবে ততদিন তাকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। অর্থাৎ পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত তাকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

লেখার সাথে সংযুক্ত করা ফাইলটি ডাউনলোড করুন

আপনি কি সন্দেহভাজন ?